ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ই-পেপার

দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত টিউলিপের আইনজীবীরা

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৫ ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৫ ১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন
দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত টিউলিপের আইনজীবীরা
বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল বানানোর মিথ্যাচারের প্রভাব, ট্রাম্প প্রসাসনবাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে আইনজীবীরা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি এ কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপাতত সম্পর্কের বিষয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘আপনারা আমার আইনি চিঠিটি দেখুন এবং দেখুন আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না... বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি কিন্তু তাদের কাছ থেকে শোনার অপেক্ষায় রয়েছি।’

গত ১৫ জানুয়ারি লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের এই এমপি ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কারণ বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি তদন্তে তার নাম উঠে আসে। পরে বিরোধীদের ব্যাপক চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।

সরকার ছাড়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মন্তব্য করে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘মাসখানেক হয়ে গেল অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু (বাংলাদেশের) কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ এর আগে গত মাসে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্কাই নিউজকে বলেছিলেন, টিউলিপ সিদ্দিক ‘দেশে সম্পদ রেখে গেছেন’ এবং ‘তার এ জন্য জবাবদিহি করা উচিত।’

টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি লিখে বলেছিলেন, অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’। চিঠিতে বলা হয়, দুদককে ‘২০২৫ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে অথবা তার আগে’ টিউলিপ সিদ্দিককে প্রশ্ন করতে হবে, অন্যথায় ‘আমরা ধরে নেব যে, উত্তর দেওয়ার মতো কোনো বৈধ প্রশ্ন নেই।’

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। স্কাই নিউজ মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জবাব পায়নি।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত তার খালা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কেন্দ্র করে তৈরি। হাসিনা প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত ৮ আগস্ট সারা দেশে তার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এদিকে টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের যে কয়টি বাড়িতে বসবাস করতেন, সেগুলোর সঙ্গে তার খালার দল আওয়ামী লীগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অবশ্য অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের জিম্মায় তুলে দেন, অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য।

স্যার লরি ম্যাগনাস সে সময় বলেছিলেন, তিনি ‘কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি’। তিনি আরও বলেছিলেন, তার খালার সঙ্গে সম্পর্কের ‘সম্ভাব্য সুনামগত ঝুঁকি’ সম্পর্কে টিউলিপ সিদ্দিকের আরও সতর্ক না হওয়া ‘দুঃখজনক’।

টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তার পদে থাকা সরকারের জন্য ‘বিচ্যুতি’ তৈরি করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো ভুল করেননি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : mainadmin

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ